মুক্তিযোদ্ধা
নিভু নিভু মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট?
সত্তরের দশকে দেশের সবচেয়ে বড় ‘শিল্প গ্রুপ’ ছিল মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট। কিন্তু উপযুক্ত ব্যবস্থাপনা ও জনবলের অভাব, আর যুগোপযোগী যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপন না হওয়ায় ৩২টি প্রতিষ্ঠানের সব কটি একে একে বন্ধ বা গুটিয়ে যায়। জড়িয়ে পড়ে ঋণের জালে।এর মধ্যে স্বমহিমায় টিকে আছে কেবল পূর্ণিমা ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড সার্ভিস সেন্টার। এই প্রতিষ্ঠানের কাঁধের ওপর মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের বড় দায়িত্ব। সঙ্গে ট্রাস্টের অন্য ফর্মে বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বন্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর জায়গায় মার্কেট, আবাসিক ভবন ও জমি লিজের আয় দিয়ে চলছে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট।মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট সংশ্লিষ্ট নানাজনের সঙ্গে আলাপে ও ট্রাস্টের বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে এসব জানা গেছে।
মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের শুরু থেকে চলমান আছে শিক্ষাবৃত্তি। প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে কল্যাণ ট্রাস্টের নিজস্ব তহবিল থেকে বছরে ৬০০ শিক্ষার্থীকে শিক্ষা বৃত্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের ছেলে-মেয়ে ও প্রজন্মদের উচ্চ শিক্ষায় গত অর্থবছরে তিন হাজার ৯৬৬ জন সাধারণ, ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ৬১১ জন শিক্ষার্থী ও পিএইচডি গবেষক তিনজনকে ৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা বঙ্গবন্ধু ছাত্র বৃত্তি দেওয়া হয়।মুক্তিযোদ্ধাদের অভাব-অভিযোগ মেটাতে আর সাহায্য-সহযোগিতার বিষয়টি যুদ্ধের পরপরই ভেবেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করে যারা ছিনিয়ে এনেছেন লাল-সবুজের বাংলাদেশ, তারা কষ্টে থাকবেন, তা কী হয়! তাই ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির এক আদেশে প্রতিষ্ঠা করা হয় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট।ওই বছরেই বঙ্গবন্ধুর দেয়া সেই সময়ের লাভজনক ৯টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ৯টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে পথচলা শুরু মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৯৭৮ সালে আরও ১১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান দেওয়া হয় ট্রাস্টকে। এ ছাড়া ট্রাস্টের নিজস্ব অর্থে তিনটি প্রতিষ্ঠান কেনা হয়। সব মিলিয়ে ট্রাস্টের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩২টি।১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর থেকে একের পর এক লোকসান দিতে থাকে লাভজনক এসব প্রতিষ্ঠান। ঋণে জর্জরিত হয়ে বন্ধও হয়ে যায় বেশ কয়েকটি। ১৯৮১ সালে ৩২টির মধ্যে সাতটি প্রতিষ্ঠান বিক্রি ও আটটি প্রতিষ্ঠান মূলধন সংকট ও লোকসানের মুখে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়।পরে বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থাও দিনে দিনে খারাপ হতে থাকে। আশির শেষ ও নব্বই দশকের মধ্যে ১৭টি প্রতিষ্ঠানের ১৪টি বন্ধ ও বিলুপ্তির পর্যায়ে চলে যায়। বাকি থাকে চারটি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া তিনটি প্রতিষ্ঠানই ঘুরপাক খাচ্ছিল লোকসানের বৃত্তে। একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায় ট্রাস্টের সবচেয়ে লাভজনক কোমল পানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান তাবানী বেভারেজ (কোকাকোলা)।২০১০ সাল পর্যন্ত শত শত কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ, গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল বকেয়া এবং অডিট আপত্তির বোঝা ছিল মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের কাঁধে। বেদখলে ছিল শত কোটি টাকার সম্পদ। তবে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর আবার পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা শুরু হয় মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে তৈরি প্রতিষ্ঠানগুলো।বর্তমান সরকারের চেষ্টায় পরিস্থিতি পাল্টেছে অনেকটাই। নতুন পরিকল্পনা ও পদক্ষেপের মাধ্যমে ফের ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখার প্রত্যয়ে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানটি।যেভাবে বন্ধ হয়
তৎকালীন সরকারের বিরাষ্ট্রীয়করণ নীতিতে ক্রমাগত লোকসানের জন্য রুগ্ন শিল্প হিসেবে ১৯৮১ সালে শিল্প মন্ত্রণালয়ের গঠিত ‘পুঁজি প্রত্যাহৃত সেল’-এর মাধ্যমে ট্রাস্টের সাতটি প্রতিষ্ঠান প্রথম বিক্রি করা হয়। এ সময় ১০ কোটি ৩৩ লাখ টাকায় ওই সাতটি প্রতিষ্ঠানের ১৩.৮৪ একর জমি ও যন্ত্রপাতি বিক্রি হয়। ওই টাকা দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর বকেয়া পরিশোধ করা হয় বলে এক প্রতিবেদনে বলা হয়।স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে দেওয়া দেশের সর্বাধিক লাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলো ১০ বছরের ব্যবধানে (১৯৮১ সাল থেকে) বন্ধ হতে থাকে। পরে ধাপে ধাপে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ প্রতিষ্ঠানের জায়গায় মার্কেট, আবাসিক ভবন নির্মাণ কিংবা চুক্তিতে ভাড়া দেওয়া হয়েছে জায়গা।ট্রাস্টের একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব জমিতে ছিল, সেগুলো বন্ধ বা পুঁজি প্রত্যাহার দেখানো হয়েছে। আর ওই সব জমিতে আবাসিক ভবন ও মার্কেট নির্মাণের কাজ চলছে।আর যেসব প্রতিষ্ঠান ভাড়ার জমিতে ছিল সেগুলো গুটিয়ে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে গুলিস্তান কমপ্লেক্স ভবনে অবস্থিত ৬টি প্রতিষ্ঠান ও মডেল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ অবস্থিত একটি প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে গুটিয়ে ফেলা হয়েছে।মিরপুরস্থ বাক্স রাবার কোং লিঃ-এর ৭.২৫ একর জমি তাবানী বেভারেজ কোম্পানিতে স্থানান্তর ও বাক্স রাবার যন্ত্রপাতি বিক্রি করা হয়। গুটিয়ে ফেলা আটটি প্রতিষ্ঠানের এখন আর কোনো অস্তিত্ব নেই।বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পরে দক্ষ ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা খারাপ হতে থাকে বলে জানান বীরপ্রতীক কাজী আকমল আলী। তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে যার মতো করে কাজ করতে থাকেন, এমন অবস্থা দাঁড়ায় যে কোনো নিয়ন্ত্রণই ছিল না। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোতে চুরিদারি বেড়ে যায়। লোকসান দিতে দিতে সরকার একপর্যায়ে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়।’পুনর্গঠন হচ্ছে পূর্ণিমা
পূর্ণিমা ফিলিং স্টেশন এন্ড সার্ভিস সেন্টার পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘খুব শিগগির স্টেশনে সিএনজি গ্যাস লাইন আসবে। স্টেশনের পুনর্গঠনের কাজ শেষ হলে এখান থেকে ট্রাস্টের আয়ও বাড়বে। অবকাঠামো জরাজীর্ণ বলে এখানে তেমন ব্যক্তিগত ও বেসরকারি গাড়ি আসে না। এখন সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের গাড়িতেই জ্বালানি সরবরাহ করা হয়।’ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) স্যার আসার আগে অবস্থা খারাপ ছিল। তবে এখন আমাদের অনেক নির্দিষ্ট কাস্টমার আছে। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জনপ্রসাশন মন্ত্রণালয় ও ঢাকা ডিসি অফিস, ঢাকা জেলা পুলিশসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট এখান থেকে জ্বালানি নেয়।’বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ১৯ প্রতিষ্ঠান
প্রথমে দেওয়া হয় ১০টি প্রতিষ্ঠান। তাবানী বেভারেজ কোং লি:, সিরকো সোপ অ্যান্ড কেমিক্যাল ইন্টাস্ট্রিজ লি:, মিমি চকোলেট লি:, মডেল ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস, মডেল ইলেকট্রিক এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন, বাক্সলী পেইন্টস লি:, হামিদিয়া অয়েল মিলস লি:, হামিদিয়া মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ ও যাত্রিক পাবলিকেশন্স।পরে আরও নয়টি প্রতিষ্ঠান দেওয়া হয় ট্রাস্টকে। গুলিস্তান সিনেমা কোম্পানি, নাজ সিনেমা কোম্পানি, গুলিস্তান ফিল্ম করপোরেশন, আনিস ফিল্ম করপোরেশন, চু-চিন-চৌ রেস্তোরাঁ, ইলেকট্রনিক অ্যান্ড ফিল্ম ইকুইপমেন্ট, মুন সিনেমা কোম্পানি, পূর্ণিমা ফিলিং এন্ড সার্ভিস স্টেশন ও দেলোয়ার পিকচার্স লি:।১৯৭৭ সালের ০১ মার্চ আরও ১১ প্রতিষ্ঠান
ইস্টার্ন কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ, মেটাল প্যাকেজেস লি:, ইউনাইটেড টোবাকো কোম্পানি লি:, বাংলাদেশ গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজ (হাইসন্স), হরদেও গ্লাস অ্যান্ড অ্যালুমিনিয়াম, পারুমা (ইস্টার্ন) লি:, বাক্স রাবার কোম্পানি লি:, ওমর সন্স (স্ট্রাকচার) লি:, বেঙ্গল ন্যাশনাল ট্যানারি, ন্যাশনাল ট্যানারি ও মদিনা ট্যানারি।আর নিজেদের গড়ে তোলা তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো- মাল্টিপুল জুস কনসেনট্রেট প্লান্ট, দুর্বার অ্যাডভারটাইজিং ও ট্রাস্ট আধুনিক হাসপাতাল। ট্রাস্ট আধুনিক হাসপাতালের জমি ট্রাস্টের আওতাধীন নয় বলে জানা গেছে।১৯৮১ সালে বন্ধ ও গুটিয়ে ফেলা প্রতিষ্ঠানগুলো
এ সময়ে বন্ধ করে দেওয়া হয় হামিদিয়া অয়েল মিলস লি:, হামিদিয়া মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ, যাত্রিক পাবলিকেশন্স, ওমর সন্স (স্ট্রাকচার) লি:, বেঙ্গল ন্যাশনাল ট্যানারি, ন্যাশনাল ট্যানারি হাজারীবাগ ও মদিনা ট্যানারি হাটহাজারী রোড।আর গুটিয়া ফেলা আটটি প্রতিষ্ঠান হলো- গুলিস্তান সিনেমা কোম্পানি, নাজ সিনেমা কোম্পানি, আনিস ফিল্ম করপোরেশন, চু-চিন-চৌ রেস্তোরাঁ, ইলেকট্রনিক অ্যান্ড ফিল্ম ইকুইপমেন্ট, মডেল ইলেকট্রিক কর্পোরেশন ও দুর্বার অ্যাডভারটাইজিং। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো জমি ছিল না।এ ছাড়া বাক্স রাবার কোম্পানি লি: এর জমি ট্রাস্টের আরেকটি প্রতিষ্ঠান তাবানি কোম্পানিকে দেওয়া হয়।বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবৃত্তি
প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে কল্যাণ ট্রাস্টের নিজস্ব তহবিল থেকে বছরে ৬০০ শিক্ষার্থীকে শিক্ষা বৃত্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের ছেলে-মেয়ে ও প্রজন্মদের উচ্চ শিক্ষায় গত অর্থবছরে তিন হাজার ৯৬৬ জন সাধারণ, ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ৬১১ জন শিক্ষার্থী ও পিএইচডি গবেষক তিনজনকে ৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা বঙ্গবন্ধু ছাত্র বৃত্তি দেওয়া হয়।ট্রাস্ট সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ শিক্ষার জন্য পাঁচ বছর মেয়াদে মাসিক এক হাজার টাকা, ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থীদের পাঁচ বছর মেয়াদে মাসিক দেড় হাজার টাকা ও পিএইচডি গবেষককে মাসিক ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।ঋণের ভারমুক্ত কল্যাণ ট্রাস্ট
এক দিকে ক্রমাগত লোকসানের মুখে আয়ের অন্যতম উৎস শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া, সুদসহ ঋণের বোঝা রীতিমতো চরম বেকায়দায় ফেলে দিয়েছিল মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টকে। প্রতিষ্ঠানটির ২০২০-২১ অর্থবছরের অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, এফডিআরের সুদ, ট্রাস্ট প্রধান কার্যালয়সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ভাড়া ও বিবিধ আয় থেকে চলছে ট্রাস্ট। আর অর্থ ব্যয় করা হয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, প্রশাসনিক ব্যয় ও বঙ্গবন্ধু ছাত্রবৃত্তিতে।আর ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফলপ্রসূ উদ্যোগে ট্রাস্টের কাছে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের সুদের ১২৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা মওকুফ করে নেয় মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট। ট্রাস্টের ৫৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর অবসরজনিত সার্ভিস বেনিফিটের বকেয়া এক কোটি ৬৮ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকের ঋণের বোঝা নেই বলে জানা গেছে।জমির কাগজপত্রের জটিলতা
প্রতিষ্ঠানটির জমি ও সম্পদের দলিলপত্রের জটিলতার সুযোগ নিয়ে অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সম্পত্তি বেদখল করে রখেছিল। এমন অনেক জায়গা ছিল যেগুলো নামে ট্রাস্টের থাকলেও ভোগ করত স্থানীয় প্রভাবশালীরা।এর মধ্যে হরদেও গ্লাস অ্যান্ড অ্যালুমিনিয়াম ওয়ার্কসের জমির মালিকানা ও স্বত্ব নিয়ে মামলা চলছে। আর মেটাল প্যাকেজ নাসিরাবাদ চট্টগ্রাম মামলা চলছে।এ ছাড়া বিভিন্ন সময় জমির দলিল ব্যাংকে জমা দিয়ে ঋণ নেওয়ার ফলেও জমির মালিকানা প্রমাণের কোনো কাগজপত্র ছিল না ট্রাস্টের কাছে। ট্রাস্টের সম্পত্তিভুক্ত অন্যান্য জমির রেকর্ড, পর্চা, দলিল ও নামজারি হালনাগাদ করা হয়েছে। ব্যাংকে জমা দেওয়া দলিলপত্র ও ট্রাস্টের হাতে এসেছে বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।ট্রাস্টের বর্তমান প্রকল্পগুলো
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ২০২০-২১ অর্থবছরে গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো হলো- স্বাধীনতা ভবন, গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স, মডেল কমপ্লেক্স, মডেল মিনি মার্কেট, পূর্ণিমা ফিলিং এন্ড সার্ভিস স্টেশন। মুন কমপ্লেক্স নির্মাণাধীন, মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার, গজনবি রোড, রাজধানী ও নিউ রাজধানী সুপার মার্কেট, অফিস বাড়ি, স্কুল বাড়ি, ৩ নং শ্রমিক কলোনি, ৪ নং শ্রমিক কলোনি, মিমি চকলেট লি., পুরাতন তাবানি (প্রস্তাবিত মুক্তিযুদ্ধ ভবন)।সিরকা সোপ এন্ড ক্যামিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লি., মেটাল প্যাকেজেস লি., তাবানি বেভারেজ কোম্পানি লি., ট্রাস্ট আধুনিক হাসপাতাল, আবাসিক সিটি বিজয় নিকেতন, ইউনাইটেড টোবাকো কোম্পানী লি. (ইউটিসি), বাংলাদেশ গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজ (হাইসন্স), ট্রাস্টের নিজস্ব অর্থায়নে কেনা কুনিয়া মৌজার জমি গাজীপুর।হরদেও গ্লাস এন্ড এ্যালুমিনিয়াম ওয়ার্কস তিনটি জায়গায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণাধীন, ইস্টার্ণ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লি., গাছের বাগান রাঙ্গুনিয়া চট্রগ্রাম, জয় বাংলা বাণিজ্যিক ভবন, টাওয়ার-৭১ মাল্টিপস জুস কনসেনট্রেট প্ল্যান্ট, বাক্সলি পেইন্টস লি., দেলোয়ার পিকচার্স লি. ও মেটাল প্যাকেজ।সাবেক ডিজিএম ও বর্তমান এমডির কথা
মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক ডিজিএম মাহমুদ পারভেজ জুয়েল ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এই ট্রাস্টের যারা দায়িত্বে আসেন তারা আয়েসে থাকতে পছন্দ করতেন। সঠিক জায়গায় সঠিক লোক নিয়োগ হয়নি। ওই সময় (তার চাকরিকালে) তাবানি একজনকে পোস্টিং দেয় যে গুলিস্তানে টিকিট বিক্রি করত। এসব কারণে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট তখন সুশৃঙ্খলভাবে চলতে পারেনি।’এখন মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের কতটি প্রতিষ্ঠান চালু আছে জানতে চাইলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) এস এম মাহবুবর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘পূর্ণিমা ফিলিং স্টেশন ছাড়া আর কোনো ব্যাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান চালু নেয়। তবে ট্রাস্টের অন্য ফর্মে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। গুলিস্তানে ট্রাস্টের মার্কেট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। এ ছাড়া রাজধানী মার্কেটে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে।’ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা কল-কারখানার জায়গাগুলোতে মার্কেটসহ আবাসিক ভবন করে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে, তবে নতুন এসব প্রকল্পে বাধাও আছে বলে জানান ট্রাস্টের এমডি।ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা কল-কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণ কী জানতে চাইলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ধারাবাহিক লোকসান আর যুগের সাথে তাল মিলিয়ে যন্ত্রপাতি স্থাপন না হওয়ায় কল-কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যায়।
সুত্রঃDhaka times 4 jun 2022.
