জুলাই সনদ ও গণভোট বিতর্কে নতুন মোড়—জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কঠোর অবস্থান জামায়াতের

নোয়াখালীর সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম ঘোষণা দেন—“আগে গণভোট, পরে জাতীয় নির্বাচন, না হয় নির্বাচন হবে না।” জুলাই সনদের ভিত্তিতে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য গণভোটকে সাংবিধানিক মর্যাদা দিতে হবে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, একটি কুচক্রী মহল প্রধান উপদেষ্টাকে ভুল পথে পরিচালিত করছে এবং দেশকে সঠিক পথে এগোতে বাধা দিচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের পর আন্দোলনের যৌক্তিকতা আরও স্পষ্ট হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

 

জুলাই সনদ ও গণভোট বিতর্কে নতুন মোড়—জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কঠোর অবস্থান জামায়াতের


 

বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। জুলাই সনদের আলোকে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে যখন দেশের রাজনৈতিক ক্ষেত্র চরম অনিশ্চয়তার মাঝে, তখন নোয়াখালীর একটি সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুমের কঠোর ঘোষণা নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সকালে নোয়াখালী পৌরবাজারে আয়োজিত সমাবেশে তিনি জোরালো কণ্ঠে বলেন—
“আগে গণভোট, পরে জাতীয় নির্বাচন, না হয় নির্বাচন হবে না।”

সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে অংশ নেয় হাজারো নেতা-কর্মী, যারা একই দাবি বারবার উচ্চারণ করে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তোলে।


জুলাই সনদ ও গণভোট—কেন্দ্রে জাতীয় বিতর্ক

এটিএম মাসুম তাঁর বক্তব্যে বলেন, জুলাই সনদের মাধ্যমে দেশের জনগণ প্রতিশ্রুতি পেয়েছিল একটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের। এই সনদকে তিনি “গণমানুষের চুক্তি” হিসেবে উল্লেখ করেন। 

আরও পড়ুন  আওয়ামী লীগের অফিসে ভয়াবহ আগুন

জামায়াতের দাবি—

  • জুলাই সনদকে সাংবিধানিক মর্যাদা দিতে হবে

  • গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় নিতে হবে

  • এরপরই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে

তাঁর ভাষায়—
“আমাদের পক্ষ থেকে আমরা এই সনদকে আদর্শে মূল্যায়ন করেছি। পরবর্তীতে গণভোটের মাধ্যমে সনদকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছি।”


‘কুচক্রী মহল দেশকে সঠিক পথে চলতে দেবে না’—মাসুমের অভিযোগ

এটিএম মাসুম অভিযোগ করেন, দেশের রাজনীতিকে বিভ্রান্ত করতে ও জনগণের আন্দোলনকে দুর্বল করতে একটি কুচক্রী মহল সক্রিয় রয়েছে।

তিনি বলেন—
“আমরা যখন গণভোটের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছি, তখন একটি দল বলেছে—এগুলো তো আলোচনার বিষয়। রাজপথে কেন? এখন প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের পর সবাই বুঝতে পারছে, আমাদের আন্দোলন কতটা যৌক্তিক ছিল।”

তিনি আরও দাবি করেন—
“প্রধান উপদেষ্টার আশপাশে কিছু কুচক্রী মহল আছে, যারা অতীতেও দেশকে সঠিক পথে যেতে দেয়নি, ভবিষ্যতেও দেবে না।”


প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ ঘিরে জল্পনা–কল্পনা

এর আগের দিন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা করেন—

  • একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে

  • জুলাই সনদের বিভিন্ন ধারা পরবর্তীতে কার্যকর হবে

  • রাজনৈতিক সমঝোতা জরুরি

এই ঘোষণার পরই জামায়াতের বক্তব্য আরও কঠোর হয়ে ওঠে। এটিএম মাসুম মনে করেন—
“এই ভাষণ প্রমাণ করেছে, গণভোট ছাড়া নির্বাচন ঘোষণা করা হয়েছে তাড়াহুড়ো করে।”


রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা—কি সামনে?

বিশ্লেষকদের মতে—

  • এই ধরনের কঠোর অবস্থান নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলছে

  • জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের পর জামায়াতের রাস্তায় নামা সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে

  • দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে

জনগণের প্রত্যাশা—

  • সুষ্ঠু নির্বাচনের রোডম্যাপ

  • পরিষ্কার নির্বাচন কমিশন পরিকল্পনা

  • গণভোট সংক্রান্ত স্বচ্ছ অবস্থান

কিন্তু বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে—
গণভোট কি সত্যিই জাতীয় নির্বাচনের আগে হবে? নাকি রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশলমাত্র?

আরও পড়ুন  গণভোটে আইন প্রণয়ন হয় না

সমাবেশ থেকে যে বার্তা উঠে এলো

নোয়াখালী সমাবেশের প্রধান বার্তা ছিল তিনটি—
1️⃣ গণভোট ছাড়া নির্বাচন হবে না
2️⃣ জুলাই সনদকে সাংবিধানিক মর্যাদা দিতে হবে
3️⃣ কুচক্রী মহলকে চিহ্নিত করে রাষ্ট্র চালাতে হবে জনগণের রায় অনুযায়ী

এটিএম মাসুমের বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল—জামায়াত রাজনৈতিক ময়দানে নতুন করে শক্ত অবস্থান নিতে চায়।


নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম