সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের বরফ গলা এবং সামরিক সহযোগিতায় নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে বলে মনে করছে কূটনীতিক মহল। অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সমুদ্র সম্পদ রক্ষায় যৌথ সক্ষমতা বাড়ানো নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। সফর শেষে তিনি সেনা ও নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে দেশে ফিরে যাবেন।
পাকিস্তান নৌবাহিনীর প্রধানের ঢাকা সফর: নতুন সহযোগিতার দ্বার খুলছে?
বাংলাদেশে তিন দিনের সরকারি সফরে এসেছেন পাকিস্তান নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল হাসান নাসির শাহ। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আমন্ত্রণে এ সফরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা সামরিক কূটনীতির দৃষ্টিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। দুই দেশের সম্পর্ক অতীতে নানা উত্তেজনা-রাজনৈতিক দূরত্বে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে ন্যূনতম আস্থা পুনর্গঠনের উদ্যোগগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নজর কাড়ছে।
এই সফরে অ্যাডমিরাল নাসির শাহ বঙ্গোপসাগর উপকূলীয় এলাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণ কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করবেন। বিশেষ করে চট্টগ্রাম নৌঘাঁটি, নৌবাহিনী একাডেমি, খুলনা শিপইয়ার্ড এবং নতুন সাবমেরিন ঘাঁটির সক্ষমতা পর্যালোচনা তাঁর সফরসূচির বড় অংশ। বাংলাদেশ সম্প্রতি সাবমেরিন ফ্লিট, মেরিটাইম পেট্রোল, সমুদ্র নজরদারি ও ড্রোন ইউনিট যুক্ত করায় পাকিস্তানসহ অনেক দেশের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে।
🤝 নিরাপত্তা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়
দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সীমিত সামরিক প্রশিক্ষণ সহযোগিতা থাকলেও প্রায় এক দশক পর এতো উচ্চ পর্যায়ের নৌ সফর হলো। এ কারণে আলোচনা আরও বিস্তৃত হবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। আলোচনায় নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পেতে পারে—
✅ নৌবাহিনী সদস্যের প্রশিক্ষণ বিনিময়
✅ যৌথ মহড়ায় অংশগ্রহণ
✅ সাইবার সিকিউরিটি এবং সামুদ্রিক প্রযুক্তি উন্নয়ন
✅ প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা
✅ মানবিক সহায়তা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
বাংলাদেশ নৌবাহিনী ইতোমধ্যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বৈশ্বিক সুনাম অর্জন করেছে। পাকিস্তানও শান্তিরক্ষায় অন্যতম অবদানকারী দেশ হওয়ায় এ খাতেও উন্নত সহযোগিতা সম্ভব।
🌍 আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য
বঙ্গোপসাগর এখন কৌশলগত দৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুত্বপ‚র্ণ। ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য—সব দেশই এখানে প্রভাব বাড়াতে সক্রিয়। বাংলাদেশ তার সামুদ্রিক ভূরাজনৈতিক অবস্থানকে আরও মজবুত করতে আধুনিক নৌবাহিনী গড়ে তুলছে।
পাকিস্তানও চাইছে দক্ষিণ এশিয়ার সমুদ্রে তার উপস্থিতি বজায় রাখতে। তাই এই সফর আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে সূক্ষ্ম প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
🇧🇩 বাংলাদেশের নৌ সক্ষমতার প্রশংসা
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ নৌবাহিনী বহরে যুক্ত হয়েছে—
-
সাবমেরিন
-
আধুনিক করভেট
-
মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট
-
নৌমহড়ার স্মার্ট প্রযুক্তি
-
নৌ ড্রোন ও অবজারভেশন সিস্টেম
এ সক্ষমতা পাকিস্তানের সামরিক পরিকল্পনায় নতুন তথ্য সংযোজন করেছে।
🎯 সফরের মূল উদ্দেশ্য কী?
বহুমাত্রিক উদ্দেশ্য থাকা সত্ত্বেও প্রধান লক্ষ্য হলো রিলেশন রিসেট—অর্থাৎ পুরানো উত্তেজনা কমিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ সামরিক কূটনীতি প্রতিষ্ঠা করা।
এই সফর শুধু রাজনৈতিক বা সামরিক সহযোগিতাই নয়—বাণিজ্য ও আঞ্চলিক সংযোগ শক্তিশালী করতেও ভূমিকা রাখতে পারে। ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সামুদ্রিক বাণিজ্য রুট, জাহাজ নির্মাণ প্রকল্প এবং সমুদ্র গবেষণায়ও চুক্তি হতে পারে।
.png)