ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে গণভোট: প্রধান উপদেষ্টা

 প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট একত্রে আয়োজন করা হবে, যাতে সংস্কারের লক্ষ্য বাধাগ্রস্ত না হয়। নির্বাচনের দিনটি উৎসবমুখর ও সাশ্রয়ী হবে। গণভোটের জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে এবং ভোটের ব্যালটে প্রশ্ন নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা গণভোটের লক্ষ্য, ব্যালট পদ্ধতি ও প্রশ্ন উন্মুক্ত করে জনগণকে জানানোর প্রক্রিয়া স্পষ্ট করেন।  

  

ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে গণভোট: প্রধান উপদেষ্টা


 

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ঘোষণা করেন, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন,

“সব বিষয় বিবেচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাতে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজন করা যায়। এতে সংস্কারের লক্ষ্য কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত হবে না এবং নির্বাচনের পরিবেশ উৎসবমুখর হবে।”

তিনি আরও বলেন, গণভোটের জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে এবং নির্বাচনের দিনটি সাশ্রয়ী ও উদ্দীপনামূলক পরিবেশে সম্পন্ন হবে। 

আরও পড়ুন  জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট ঘোষণার পরই নড়েচড়ে বিএনপি


🔹 জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট

ড. ইউনূস বলেন, “জুলাই সনদের আলোকে গণভোটের ব্যালটে উপস্থাপনীয় প্রশ্নও নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা জনগণকে স্পষ্ট ও সরাসরি জানাবো, যাতে তারা সহজে ভোট দিতে পারে।”

বৈঠক ও ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা আরও বিস্তারিত জানান,

“গণভোট নির্বাচনের সঙ্গে একত্রে আয়োজন করা হলে জনগণ উভয় প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। এটি নির্বাচন ও গণভোটকে সমন্বিতভাবে উদযাপন করার সুযোগ তৈরি করবে।”


🔹 নির্বাচনের সুবিধা ও উৎসবমুখর পরিবেশ

ড. ইউনূস মনে করেন, একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করলে জনগণ রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রতি আরও উৎসাহী হবে। এটি সময় ও ব্যয় সংরক্ষণ করবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করার পাশাপাশি জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগকে সহজ করবে।


🔹 নির্বাচনী প্রশ্ন ও প্রক্রিয়া

গণভোটের জন্য ভোটের ব্যালটে যে প্রশ্নটি উপস্থাপন করা হবে, তা স্পষ্ট ও সহজভাবে জনগণকে জানানো হবে। ড. ইউনূস ভাষণে বলেন,

“প্রশ্নটি হবে জনগণ সরাসরি বুঝতে পারবে, এবং এটি ভোটারদের নির্বাচনে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে।”

এই প্রক্রিয়া সাধারণ নাগরিকদের জন্য নির্বাচন ও গণভোটকে সহজ, গ্রহণযোগ্য এবং অংশগ্রহণযোগ্য করবে। 

আরও পড়ুন শেখ হাসিনা খালাস পাবেন”—আশা আইনজীবীর


🔹 সরকারের প্রস্তুতি ও আইন প্রণয়ন

প্রধান উপদেষ্টা জানান, গণভোট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে। এতে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হবে। জনগণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত করা হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, নির্বাচন ও গণভোট একত্রে আয়োজন করা হলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও সুসংহত হবে এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে।


🔹 রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যেই প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা মনে করছে, একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করলে রাজনৈতিক শক্তি ও জনমত আরও স্পষ্ট হবে।

একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন,

“গণভোট ও নির্বাচন একত্রে হলে জনগণ সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আস্থা ও সমর্থন প্রকাশ করার সুযোগ পাবে। এটি নির্বাচনী সংস্কারকে বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”


নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম