শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় সাবেক মন্ত্রীর জামিন বহাল রাখল আপিল বিভাগ

 সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে শাহবাগ থানায় দায়ের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আপিল বিভাগে বহাল রাখা হয়েছে। রোববার (১০ নভেম্বর) আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর বেঞ্চ এই আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের জামিন স্থগিত চেয়ে শুনানি করলেও আদালত আবেদন খারিজ করে। মামলায় অন্যান্য আসামিদের জামিন শুনানি এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। এই মামলায় মোট ১৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল, যার মধ্যে সাবেক মন্ত্রী, বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক ও বিভিন্ন ব্যক্তি রয়েছেন। আপিল বিভাগের এ সিদ্ধান্ত উচ্চ আদালতের পূর্ববর্তী রায়কে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে।  

 

শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় সাবেক মন্ত্রীর জামিন বহাল রাখল আপিল বিভাগ


 

লতিফ সিদ্দিকীর জামিন বহাল: আপিল বিভাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে শাহবাগ থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখল আপিল বিভাগ

রোববার, ১০ নভেম্বর, আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী এবং সহকারী বিচারপতিদের বেঞ্চ এই আদেশ দেন। হাইকোর্টের জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি চললেও আদালত জামিন বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

মামলার পটভূমি

এই মামলাটি দায়ের করা হয় শাহবাগ থানায়, দায়েরক হিসেবে উল্লেখ থাকেন উপপরিদর্শক মো. আমিরুল ইসলাম (এসআই)। মামলায় মোট ১৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে সাবেক মন্ত্রী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত ব্যক্তিত্ব।

গত ২৯ আগস্ট, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক এ মামলায় অভিযুক্তদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই আদেশের প্রেক্ষিতে সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ও ঢাবি অধ্যাপক কার্জন সহ অন্যান্যরা বৈধ প্রক্রিয়ায় আপিল করেন। 

আরও পড়ুন  কেন ‘ফজু পাগলা’ নামটিই তাঁর সবচেয়ে ভালো লাগে?

আপিল বিভাগের শুনানি

হাইকোর্টের জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করলেও, আদালত আবেদন খারিজ করে। জামিনের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী জেড আই খান পান্না, সারা হোসেন ও রমজান আলী শিকদার।

অপর আসামি সাংবাদিক মনজুরুল আলম পান্না-এর জামিন শুনানি এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের জন্য আদালতের নিয়মিত বেঞ্চ পরবর্তীতে শুনানি পরিচালনা করবে।

মামলায় অভিযুক্তরা

  • মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন (৭৩)

  • মঞ্জুরুল আলম (৪৯)

  • কাজী এটিএম আনিসুর রহমান বুলবুল (৭২)

  • গোলাম মোস্তফা (৮১)

  • মো. মহিউল ইসলাম ওরফে বাবু (৬৪)

  • মো. জাকির হোসেন (৭৪)

  • মো. তৌছিফুল বারী খাঁন (৭২)

  • মো. আমির হোসেন সুমন (৩৭)

  • মো. আল আমিন (৪০)

  • মো. নাজমুল আহসান (৩৫)

  • সৈয়দ শাহেদ হাসান (৩৬)

  • মো. শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার (৬৪)

  • দেওয়ান মোহম্মদ আলী (৫০)

  • মো. আবদুল্লাহীল কাইয়ুম (৬১)

আদালতের সিদ্ধান্তের গুরুত্ব

আপিল বিভাগের এই আদেশে হাইকোর্টের পূর্ববর্তী রায়কে প্রমাণযোগ্য ও বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এটি শুধু সাবেক মন্ত্রীর জন্য নয়, বরং দেশের আইনগত প্রক্রিয়ার প্রতি সাধারণ নাগরিকদের আস্থা বৃদ্ধি করে।

  • আদালত স্পষ্ট করে যে, কোনো অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়া চলবে।

  • হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের রায় আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে সমন্বয় প্রদর্শন করে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

সাবেক মন্ত্রী ও এই মামলার প্রেক্ষিতে দেশের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। আপিল বিভাগের এই সিদ্ধান্ত নাগরিকের আইনি অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণের গুরুত্ব বহন করে।

  • রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব বিবেচনা করে, আপিল বিভাগ আইনগত নিয়মে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

  • মামলার আসামিরা আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখবেন।

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম