চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামাল হোসেন মুক্তিযোদ্ধা কোটার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগে আলোচনার কেন্দ্রে। নিজের চাচা-চাচিকে পিতা-মাতা হিসেবে দেখিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটা সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর তাকে নাচোল উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করে ওএসডি করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। এদিকে দুদক ইতোমধ্যে মামলাও করেছে এবং ডিএনএ টেস্ট করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে চাকরি গ্রহণ থেকে শুরু করে শিক্ষা জীবনের সার্টিফিকেট—সব কিছু বাতিলসহ বড় শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন তিনি। এলাকা ও প্রশাসনে বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে। তবে ইউএনও কামাল হোসেন ফোনে যোগাযোগ চেষ্টাতেও কোনো মন্তব্য দেননি।
বাংলাদেশের প্রশাসনিক ক্যারিয়ারে অন্যতম বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে আলোচনায় এসেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামাল হোসেনের ঘটনা। মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা নিতে তিনি নিজের চাচা-চাচিকে পিতা-মাতা হিসেবে দেখিয়েছেন—দুদকের এমন অভিযোগের পর তাকে পদ থেকে সরিয়ে ওএসডি করা হয়েছে। এই কেলেঙ্কারি শুধু নাচোল নয়, গোটা প্রশাসনজুড়ে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।
✅ প্রজ্ঞাপন জারি — সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর
৫ নভেম্বর সিনিয়র সহকারী সচিব সামিউল আমিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়—
জনস্বার্থে তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হলো এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এ ধরনের ব্যবস্থা সাধারণত কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলে নেওয়া হয়।
✅ অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু — মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ে প্রতারণা
দুদকের অভিযোগ:
| অভিযোগ | ব্যাখ্যা |
|---|---|
| পরিচয় জালিয়াতি | নিজের বাবা-মায়ের পরিবর্তে চাচাকে পিতা হিসেবে দেখানো |
| কোটা সুবিধা গ্রহণ | মুক্তিযোদ্ধা কোটা ব্যবহার করে ৩৫তম বিসিএসে চাকরি |
| পূর্বের শিক্ষা সুবিধা | বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা গ্রহণ |
| পরিবারের সংশ্লিষ্টতা | চাচা-চাচিও তদন্তের আওতায় |
✅ ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত
দুদক মহাপরিচালক জানিয়েছেন—
সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য আদালতের অনুমতি নিয়ে ইউএনও, তার প্রকৃত বাবা-মা এবং চাচা-চাচীর ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।
এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রশাসনিক নিয়োগ তদন্তে অভূতপূর্ব পদক্ষেপ।
✅ ইউএনও’র নীরবতা
ঘটনা নিয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি। তার নীরবতা আরও প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে।
✅ জেলা প্রশাসকের বক্তব্য
নতুন যোগদান করায় পুরো পরিস্থিতি এখনও জানেন না জানান তিনি।
“গণমাধ্যমের মাধ্যমেই বিষয়টি জানলাম। বিস্তারিত পরে জানাতে পারবো।”
✅ অতীত ক্যারিয়ার — তৎপর কিন্তু বিতর্কের ছায়া
তিনি এর আগে দায়িত্ব পালন করেছেন—
-
মাগুরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে
-
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ইউএনও হিসেবে
এখনো পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে অন্য প্রশাসনিক অভিযোগ সামনে না এলেও
এই একটি অভিযোগই ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দিতে পারে।
✅ শাস্তি কী হতে পারে?
যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়:
-
বিসিএস চাকরি বাতিল
-
সার্ভিস থেকে স্থায়ী বহিষ্কার
-
জালিয়াতির মামলায় দণ্ড
-
সরকারি সব সুবিধা বাতিল
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন—
মুক্তিযোদ্ধা কোটার নামে প্রতারণা জাতীয় ইতিহাসকে অসম্মান করা, যা রাষ্ট্রীয় অপরাধ।
✅ জনমনে ক্ষোভ
সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া:
-
মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অবমাননা
-
প্রকৃত সুবিধাভোগীদের অধিকার বঞ্চনা
-
প্রশাসনে সুশাসনের প্রশ্ন
✅ শেষ কথা
এই ঘটনা দেখায়—
👉 কোটা ব্যবস্থার নজরদারি জরুরি
👉 নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন
👉 জালিয়াতি প্রমাণ হলে উদাহরণযোগ্য শাস্তি হওয়া উচিত
দুদকের তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার ফলাফলেই নির্ধারিত হবে—
ইউএনও কামাল হোসেনের ভবিষ্যৎ কোন পথে যায়।
