রামপুরা থানার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত গণঅধিকার পরিষদের মশাল মিছিলে আবু হানিফ ও অন্যান্য নেতা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। তারা বলেছেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ চোরাগোপ্তা হামলা ও অরাজকতার মাধ্যমে নিরীহ মানুষ হত্যা করছে এবং আসন্ন নির্বাচন ব্যাহত করার ষড়যন্ত্র করছে। আবু হানিফ বলেন, জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং কোনো অপশক্তি তাদের ভোটাধিকার নষ্ট করতে পারবে না। মিছিলে কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা উপস্থিত থেকে স্বরাষ্ট্রমুখী রাজনৈতিক সন্ত্রাস এবং নাগরিক অধিকার রক্ষার জন্য সক্রিয় আন্দোলনের আহ্বান জানান।
বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রামপুরা থানার উদ্যোগে ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে’ মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক অতিক্রম করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শেষ হয়। এই সমাবেশে গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ প্রধান বক্তৃতা দেন।
🔹 আবু হানিফের আওয়ামী লীগ-বিরোধী তীব্র অভিযোগ
আবু হানিফ বলেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ দেশ জুড়ে চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে নিরীহ মানুষ হত্যা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষমতাবলে থাকার সময় তারা আগুন দিয়ে বিরোধী নেতা ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে আশ্রয় নিয়ে আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “ককটেল বিস্ফোরণ ও আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আবার রাজনীতিতে ফিরে আসার চেষ্টা করছে, কিন্তু জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।”
🔹 রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও জনগণের প্রতিক্রিয়া
আবু হানিফের বক্তব্যে বলা হয়, আওয়ামী লীগ দেশের বিভিন্ন জায়গায় অরাজকতা সৃষ্টি করে আসন্ন নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নিজেদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার রক্ষা করবে।
গণঅধিকার পরিষদের অন্যান্য নেতা শফিকুল ইসলাম রতন, মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম, সহসভাপতি রাকিবুল হাসান, অপূর্ব আলমগীর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাসান এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সাব্বির মিছিলে বক্তব্য রাখেন। তারা সকলেই দেশের নাগরিক অধিকার রক্ষা ও রাজনৈতিক সন্ত্রাস প্রতিহত করার জন্য সক্রিয় আন্দোলনের আহ্বান জানান।
🔸 মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের অভিমত
স্থানীয়রা জানান, মশাল মিছিল শুধু প্রতিবাদ নয়, নাগরিক অধিকার রক্ষার প্রতীকও বটে। মিছিলে উপস্থিতরা বলছেন, আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার হতে হবে। মিছিলের মাধ্যমে তারা রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার রক্ষায় সক্রিয় থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
🔹 নেতাদের বক্তব্যের গুরুত্ব
আবু হানিফ এবং অন্যান্য নেতারা বলেন, গত ১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগ দমন-পীড়নের রাজনীতি চালিয়েছে। জুলাইয়ে ছাত্র-জনতাকে হত্যা করে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা ব্যর্থ হলেও, এখন তারা পুনরায় ষড়যন্ত্র করছে। তবে এই কর্মকাণ্ড তাদের রাজনীতিতে ফেরার পথ চিরতরে বন্ধ করছে।
🔸 আশ্বাস ও আহ্বান
সমাবেশ শেষে নেতারা জনগণকে আশ্বাস দেন, কোনো অপশক্তি আসন্ন ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ব্যাহত করতে পারবে না। তারা জনগণকে সরব থাকার জন্য আহ্বান জানান। রাজনৈতিক সচেতনতা ও জনসাধারণের একতা আগামী নির্বাচনের সাফল্য নিশ্চিত করবে।
.png)