ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের রসিকতায় চমকে গেলেন আল–শারা: কূটনীতির আড়ালে হাস্যরস নাকি বার্তা?

 ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল–শারার বৈঠকে ঘটে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা। হাস্যরসাত্মক ভঙ্গিতে ট্রাম্প সরাসরি আল–শারাকে জিজ্ঞেস করেন, “তোমার স্ত্রী কয়টা?” এতে হোয়াইট হাউসের পরিবেশ কিছুক্ষণের জন্য বিব্রতকর হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে উভয় নেতা পারফিউম বিনিময়ের মাধ্যমে আলোচনা শুরু করেন। এই বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তীব্র আলোচনার ঝড় ওঠে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন বার্তা, যেখানে রসিকতার আড়ালে রাজনীতির জটিল ইঙ্গিত লুকিয়ে আছে। 

  

ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের রসিকতায় চমকে গেলেন আল–শারা: কূটনীতির আড়ালে হাস্যরস নাকি বার্তা?


 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ-এর তথ্য অনুযায়ী, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল–শারা ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করেন পাশের গেট দিয়ে। মূল ফটক দিয়ে নয়, বরং নিরাপত্তা বিবেচনায় তাঁকে প্রবেশ করানো হয় বিশেষ পথে।
সাংবাদিকরা প্রবেশপথেই তাঁর অতীত জীবন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন করেন, যদিও আল–শারা সেসব উপেক্ষা করেন। কিন্তু অল্প সময় পরই তাঁকে আরও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়—এবার প্রশ্নকারী খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।


🔹 ট্রাম্পের সরাসরি প্রশ্ন: ‘তোমার স্ত্রী কয়টা?’

এক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ট্রাম্প আল–শারাকে স্বাগত জানিয়ে নিজের ব্র্যান্ডের একটি পারফিউম উপহার দেন। তিনি বলেন, “এটা পুরুষদের জন্য, সবচেয়ে ভালো সুগন্ধি।” এরপর একটি নারীদের পারফিউমের বোতল দেখিয়ে বলেন, “এটা তোমার স্ত্রীর জন্য।”
তারপরই রসিকতার ছলে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “তোমার কয়জন স্ত্রী আছে? একজন?”
আল–শারা হাসিমুখে জবাব দেন, “আমার মাত্র একজন স্ত্রী।”
এরপর ট্রাম্প হাততালি দিয়ে বলেন, “তোমাদের ক্ষেত্রে আমি কখনই নিশ্চিত হতে পারি না!”
এই বক্তব্যে উপস্থিত কর্মকর্তারা হাসলেও, আল–শারা দৃশ্যত কিছুটা অস্বস্তিতে ছিলেন। 

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের অনুপ্রবেশ নজরদারি কেন জোরদার?


🔸 ইসলাম প্রসঙ্গে ট্রাম্পের ইঙ্গিত

ইসলামে চারজন স্ত্রী রাখার অনুমতির প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে অনেকে ‘কূটনৈতিক সীমালঙ্ঘন’ বলছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত ভাইরাল হয়, বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বে এটি নিয়ে তীব্র সমালোচনা দেখা যায়।
তবে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, এটি ছিল ‘হাস্যরসাত্মক মুহূর্ত’, কোনো অপমান নয়।


🔹 বৈঠকের রাজনৈতিক পটভূমি

আল–শারার এই সফর ছিল তাঁর নতুন আন্তর্জাতিক প্রচারণার অংশ। তিনি দাবি করছেন, তাঁর দল হায়াত তাহরির আল–শাম এখন আর পশ্চিমা বিশ্বের জন্য হুমকি নয়; বরং তারা প্রেসিডেন্ট বাশার আল–আসাদের সরকারকে উৎখাত করে সিরিয়ায় ‘নতুন বাস্তবতা’ তৈরি করেছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছে, যদিও বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।


🔸 আমেরিকান রাজনীতিতে প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্প ও আল–শারার এই বৈঠক নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ট্রাম্পের সমর্থকরা একে সাহসী কূটনৈতিক পদক্ষেপ বললেও, কঠোরপন্থীরা সমালোচনা করছেন।
লরা লুমার, ট্রাম্পের এক প্রভাবশালী সমর্থক, এই সাক্ষাৎকে “রাজনৈতিক ভুল” বলে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, সিরিয়ার বর্তমান প্রশাসন এখনও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায় এড়াতে পারেনি।


🔹 বৈঠকের নিরাপত্তা ও প্রটোকল ভঙ্গ

ট্রাম্প প্রশাসন বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিলেও, আল–শারাকে দেওয়া হয় না সাধারণ রাষ্ট্রীয় অতিথির সম্মান।
তিনি মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করেননি, হোয়াইট হাউসে সিরিয়ার পতাকাও তোলা হয়নি, এবং কোনো আনুষ্ঠানিক স্বাগত অনুষ্ঠানও হয়নি। এই ব্যতিক্রমী আয়োজন অনেকের কাছে কূটনৈতিক দূরত্বের ইঙ্গিত বহন করছে।


🔸 আইসিস-বিরোধী জোটে যোগদান

বৈঠকের একদিন পর সিরিয়ার কর্মকর্তা ঘোষণা দেন, তাদের দেশ আইসিস-বিরোধী বৈশ্বিক জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে। এর প্রতিদানে, ট্রাম্প সিরিয়ার ওপর আরোপিত ‘সিজার অ্যাক্ট’ নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করেন
স্থায়ীভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য অবশ্য মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।


🔹 ট্রাম্পের প্রশংসা ও বার্তা

বৈঠকের শেষে ট্রাম্প বলেন,

“সে এসেছে এক ভয়ংকর কঠিন জায়গা থেকে, আর সে নিজেও কঠিন মানুষ। আমি তাকে পছন্দ করি।”
ট্রাম্পের এই বক্তব্যে অনেকেই কূটনৈতিক ‘উষ্ণতার’ ইঙ্গিত দেখছেন। অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত একজন নেতাকে এমন প্রশংসা দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান দুর্বল করতে পারে।


🔸 আল–শারা ও তার পরিবার

আহমেদ আল–শারার স্ত্রীর নাম লতিফা আল–দ্রৌবি। দামেস্ক ইউনিভার্সিটিতে পড়াকালে তাদের পরিচয় হয় এবং ২০১২ সালে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির তিন সন্তান রয়েছে।
সিরিয়ার রাজনীতিতে আল–শারা বর্তমানে শক্তিশালী এক নতুন মুখ, যিনি পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাচ্ছেন।

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম