দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি আদায়ে আন্দোলনরত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা কর্মবিরতি স্থগিতের ঘোষণা দিলেও পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন। রাতের বৈঠক শেষে মন্ত্রণালয় কর্মবিরতি স্থগিতের দাবি করলেও শহীদ মিনারে এসে শিক্ষকরা জানান— লাগাতার কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি চলবে। নেতাদের ব্যাখ্যা— শিক্ষক সমাজের চাপ এবং আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সংহতি রেখেই সিদ্ধান্ত বদল। সোমবার মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের সাথে হতে যাচ্ছে ‘চূড়ান্ত’ বৈঠক। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। দেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষা খাতের সহকারী শিক্ষকরা আবারও কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিন দফা দাবি আদায়ে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে আসা শিক্ষকরা রবিবার (১০ নভেম্বর) রাতে নেওয়া স্থগিত সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এতে প্রাথমিক শিক্ষায় অচলাবস্থা আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন বিএনপি–জামায়াতের আসন সমঝোতা গোপনে চলছে
📍 কী ছিল সেই তিন দফা দাবি?
1️⃣ সহকারী শিক্ষকদের দশম গ্রেডে বেতন প্রদান
2️⃣ চাকরির ১০ এবং ১৬ বছরে উচ্চতর গ্রেড নিশ্চিতকরণ
3️⃣ ১০০% বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা
শিক্ষকদের দাবি— এ তিনটি শর্ত পূরণ না হলে আন্দোলন চলবে এবং প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
💬 সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পেছনের ঘটনা
রবিবার রাতে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রথমে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেয় শিক্ষক প্রতিনিধিরা। কিন্তু শহীদ মিনারে ফিরে গেলে আন্দোলনরত শিক্ষক সমাজ ক্ষোভ প্রকাশ করে।
শিক্ষকদের অন্যতম আহ্বায়ক মুহিব উল্লাহ বলেন—
“আমাদের জনরোষ দেখেই নেতারা সিদ্ধান্ত বদল করেছেন। কর্মবিরতি চলবে।”
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির (শাহিন-লিপি) সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি সরাসরি মাঠে ঘোষণা দেন—
“অবস্থান ও কর্মবিরতি একসাথেই চলবে!”
🕘 পরবর্তী পরিকল্পনা
📍 সোমবার বিকাল ৫টায়
📍 অর্থ সচিব ও প্রাথমিক শিক্ষা সচিবের সঙ্গে
📍 “চূড়ান্ত” বৈঠক
যদি সমাধান না আসে—
➡️ ঢাকামুখী আরও শিক্ষক সমাবেশ
➡️ সারাদেশে শ্রেণি বন্ধ
➡️ রাজপথে নতুন শক্তির প্রকাশ
🎯 সরকারের অবস্থান
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা বলেন—
“শিক্ষকদের দাবি গুরুত্বসহকারে দেখছি। ইতিবাচক অগ্রগতি হবে।”
তবে তিনি আরও জানান—
স্কুলে স্বাভাবিক শ্রেণি কার্যক্রম নিশ্চিত করা জরুরি।
🔍 কেন এই আন্দোলন?
✅ দীর্ঘদিন ধরে বেতন বৈষম্য
✅ উচ্চতর গ্রেড নিয়ে বাড়তি জটিলতা
✅ যোগ্যতার তুলনায় সুযোগ কম
✅ পদোন্নতি সীমাবদ্ধতা
বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষকরা জাতীয় শিক্ষার অগ্রভাগে থাকা সত্ত্বেও তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা এখনও আশানুরূপ নয় — এটাই তাদের আন্দোলনের মূল যুক্তি।
📌 প্রতিক্রিয়া কী?
➡️ অভিভাবকরা: বাচ্চাদের পড়ালেখা ব্যাহত হওয়ায় উদ্বিগ্ন
➡️ শিক্ষার্থীরা: স্কুলে ক্লাস কম, মানসিক চাপ
➡️ বিশ্লেষকরা: সময়মতো সমাধান না পেলে অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে
.png)