শেখ হাসিনা খালাস পাবেন”—আশা আইনজীবীর | মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় সোমবার

 আগামী ১৭ নভেম্বর সোমবার ঘোষিত হতে যাচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়। এই মামলার প্রধান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা করবেন। রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন জানিয়েছেন, তিনি আশা করছেন তার ক্লায়েন্ট শেখ হাসিনা খালাস পাবেন। মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে ২৮ কার্যদিবসে ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যের মাধ্যমে। রায় ঘোষণার আগেই এই মামলাকে ঘিরে দেশ-বিদেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। 

 

শেখ হাসিনা খালাস পাবেন”—আশা আইনজীবীর | মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় সোমবার


 

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অপেক্ষায় পুরো দেশ। আগামী সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫, ঘোষণা হতে যাচ্ছে সেই রায়—যে মামলার কেন্দ্রে আছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আরও দুই প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। জুলাই মাসের গণ–অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে এই মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল কয়েক মাস আগে।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ রায়ের দিন ঘোষণা করে জানায়, মামলার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের নেতৃত্বে রয়েছেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার, তার সঙ্গে আছেন বিচারপতি সফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। 

আরও পড়ুন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট

🔹 আইনজীবীর আত্মবিশ্বাস: ‘খালাসের আশা করছি’

রাষ্ট্রনিযুক্ত শেখ হাসিনার আইনজীবী আমির হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন,

“আমি বিচার প্রক্রিয়ায় কোনও অনিয়ম দেখিনি। আমাকে বাধা দেওয়া হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষের কাছ থেকে যথাযথ সহযোগিতা পেয়েছি। আমার ক্লায়েন্টদের পক্ষ থেকে যথাসম্ভব যুক্তি তুলে ধরেছি এবং আমি আশাবাদী, তারা খালাস পাবেন।”

তার বক্তব্যে প্রতীয়মান হয়, বিচারপক্রিয়ার পুরোটা সময়েই তিনি ন্যায্যতা পেয়েছেন।

🔹 আসামিরা কারা?

এই মামলায় তিনজন আসামি রয়েছেন—

  1. শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী (বর্তমানে পলাতক)

  2. আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (পলাতক)

  3. চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল–মামুন, সাবেক আইজিপি (গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে)

তিনজনের বিরুদ্ধেই মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

🔹 সাক্ষ্য ও তদন্ত

মামলাটিতে ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয় ২৮ কার্যদিবসে। সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত ছিল সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল–মামুনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, যা রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত হয়।

তদন্ত সংস্থা তাদের প্রতিবেদনে জানায়, জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানের সময় শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যের নেতৃত্বে সাধারণ মানুষের ওপর ব্যাপক নির্যাতন, গুম ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। 

আরও পড়ুন মনোনয়ন তালিকা নিয়ে বিভ্রান্তি ভাঙলেন তানভীর হুদা

🔹 প্রসিকিউশন ও প্রতিরক্ষা যুক্তি

প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আদালতে বলেন,

“এই অপরাধগুলো আন্তর্জাতিক মানবতার বিরুদ্ধে, তাই এর সর্বোচ্চ শাস্তিই প্রাপ্য।”

অন্যদিকে প্রতিরক্ষা আইনজীবী দাবি করেন,

“এটি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে করা একটি প্রতিহিংসামূলক মামলা। কোনো দৃঢ় প্রমাণ নেই যা সরাসরি শেখ হাসিনাকে অভিযুক্ত করে।”

🔹 রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

এই বিচারকে কেন্দ্র করে দেশ-বিদেশে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, এটি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক পরীক্ষা’
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও বিষয়টি নিয়ে সরব—BBC, Al Jazeera, Reuters সহ একাধিক গণমাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ পেয়েছে।

🔹 নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি

রায় ঘোষণার দিন রাজধানী ঢাকায় বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হাইকোর্ট ও ট্রাইব্যুনাল এলাকাজুড়ে সতর্ক অবস্থানে থাকবে।

🔹 সম্ভাব্য রায়ের প্রভাব

রায়ের ফলাফল শুধু তিন অভিযুক্তের ভাগ্য নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকেও প্রভাবিত করতে পারে।
যদি খালাস পান শেখ হাসিনা, তাহলে তা তার রাজনৈতিক পুনরুত্থানের সম্ভাবনা জাগাতে পারে। আর যদি দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে তার রাজনৈতিক অধ্যায় একপ্রকার চূড়ান্তভাবে শেষ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম